ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ইউক্রেনকে শত শত কোটি ইউরোর নতুন কোনো ঋণ বা অর্থসহায়তা দেওয়াকে অকার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, স্লোভাকিয়া এমন কোনো অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না, যা আদতে কখনোই ফেরত পাওয়া যাবে না।
গত বুধবার ব্রাসেলসে এক বক্তব্য প্রদানকালে ফিকো উল্লেখ করেন, ২০২৬-২০২৭ সালে ইউক্রেনের চাহিদা মেটানোর জন্য ইইউর বরাদ্দকৃত ৯০ বিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ১০১ বিলিয়ন ডলার) বিদ্যমান ঋণ প্যাকেজটি ইতিমধ্যেই অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়েছে। এই বিশাল অর্থায়নের ৬০ বিলিয়ন ইউরো সামরিক খাতে এবং ৩০ বিলিয়ন ইউরো বাজেট সহায়তার জন্য নির্ধারিত ছিল। প্রাথমিক চুক্তি অনুসারে, রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর কিয়েভ এই ঋণ পরিশোধ করার কথা—যা মস্কো শুরুতেই দ্ব্যর্থহীনভাবে নাকচ করে দিয়েছে।
ইইউ এখন কিয়েভের জন্য আরেকটি নতুন বিশাল ঋণ প্যাকেজের পরিকল্পনা করছে উল্লেখ করে ফিকো জানান, স্লোভাকিয়া অন্য দেশগুলোকে এতে বাধা দেবে না, তবে নিজের জন্য এই অর্থায়ন প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসার (Opt-out) সুযোগ চাইবে।
স্লোভাক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল দিকগুলো:
ঋণ নয়, উপহার: রবার্ট ফিকো জোর দিয়ে বলেন, “অবশ্যই ইউক্রেনকে টাকা দিন, কিন্তু স্লোভাক প্রজাতন্ত্র এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না। এগুলো আসলে ঋণ নয়, উপহার। ইউক্রেন এই টাকার এক পয়সাও কখনো ফেরত দিতে পারবে না।”
বাজেট যুক্ত করার বিরোধিতা: আগামী ডিসেম্বরে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনকে কয়েক বিলিয়ন ইউরোর নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে স্লোভাকিয়া এই প্রস্তাবের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে জোটের ২০২৮-২০৩৪ সালের বাজেট আলোচনার সঙ্গে এ ধরনের ঋণ প্রক্রিয়া যুক্ত না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে।
সহায়তা বন্ধের নীতি: ফিকোর সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কিয়েভকে সরকারি অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেছে, ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদানের বিরোধ আন্তর্জাতিক ফোরামে বজায় রেখেছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত অবসানে ক্রমাগত শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, গত আগস্টে ইউক্রেন তাদের প্রতিরক্ষা খাতে অপ্রত্যাশিতভাবে ২৭ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের ঘাটতি হওয়ার কথা জানালে ইউরোপীয় মহলে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ব্রাসেলস কিয়েভের দেওয়া এই হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং ২০২৭ সালের নির্ধারিত অর্থ বরাদ্দ আগাম ছাড় করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। এর পরিবর্তে ইইউ ইউক্রেনকে ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবিলাসহ সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক সংস্কারের শর্ত বেঁধে দিয়েছে।
পরবর্তীতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি অভ্যন্তরীণ ব্যয় সংকোচন ও অর্থ পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে ঘাটতি মেটানোর ঘোষণা দিলেও, ইউরোপীয় সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন করে নিঃশর্ত অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আরটি নিউজ
এমআর




Comments